ফটো লাইফার

বাংলাদেশের ডাহর

বাংলাদেশে দু-প্রজাতির ডাহর পাওয়া যেত একসময় বাংলা ডাহর Bengal Florican Houbaropsis bengalensis আমাদের দেশে আর পাওয়া যায় না বুস্টার্ড জাতীয় পাখি এই বাংলা ডাহর। এর আরেক নাম তাই Bengal Bustard. একে বাংলাদেশের যমুনা নদীর অববাহিকায় চরাঞ্চলে দেখা পাওয়া যেত একসময় তবে অত্যধিক শিকারের কারনে বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত। বিশ্বে মহাবিপন্ন এদেশে ইতোমধ্যে বিলুপ্ত ছোট ডাহর Lesser Florican Sypheotides indicus আমাদের দেশে আর পাওয়া যায় না আকারে আরেকটু ছোট আকৃতির এই ডাহরও বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত। বাংলাদেশের পাখির তালিকায় একে স্থান দেয়া হয়েছে, সর্বশেষ দেখা গেছিলো প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে। বিশ্বে মহাবিপন্ন এদেশে ইতোমধ্যে বিলুপ্ত

বাংলাদেশের ডাহর Read More »

বাংলাদেশের রাতচরা

বাংলাদেশে মোট ছয় প্রজাতির রাতচরা পাখি পাওয়া গেছে। বড় কান-চরা Great Eared-Nightjar Lyncornis macrotis আমাদের দেশের আবাসিক পাখি সবচেয়ে বড় আকৃতির এই রাতচরা আমাদের দেশে শুধুমাত্র সিলেট ও চট্বগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি বনে পাওয়া যায়। তবে সিলেট বিভাগ থেকে অনেকদিন পাওয়া যায়নি, মাঝে সুনামগঞ্জ এর সীমান্ত এলাকা থেকে একটি ধরা পড়েছিলো। চট্বগ্রাম বিভাগের উচু পাহাড়ি বনাঞ্চলে নিয়মিত এর ডাক শোনা যায় তবে ছবি পাওয়া খুব কঠিন। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি মেটে রাতচরা Grey Nightjar Caprimulgus jotaka আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী বিরল এই রাতচরার বাংলাদেশে উপস্থিতি সম্পর্কে খুব বেশিকিছু জানা যায়না তবে কয়েক বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একটি পাওয়া গেছিলো। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি সাইক্সের রাতচরা Sykes’s Nightjar Caprimulgus mahrattensis আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী এই রাতচরার বিস্তৃতি আমাদের দেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিম পাশে, তবে মাঝে বড় এলাকা বাদ দিয়ে আমাদের দেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে শীতকালে কিছু স্থানে পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিত। এর প্রথম ছবি তুলেছিলাম রাজশাহীর পদ্মার চর থেকে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে সাইক্সের রাতচরা, রাজশাহী ল্যাঞ্জা রাতচরা Large-tailed Nightjar Caprimulgus macrurus আমাদের দেশের আবাসিক পাখি লম্বা লেজবিশিষ্ট এই রাতচরা পাখিটি সারাদেশেই পাওয়া যায়, আমাদের সুলভ আবাসিক পাখি। সাধারনত বাঁশবাগান বা আমবাগান জাতীয় যায়গা এদের পছন্দ, বাসা করে মাটিতে ঝরা পাতার মধ্যে। আশেপাশে কাউকে টের পেলেই উড়ে গিয়ে দূরে মাটিতে বসে বা ডালে বসে। একযায়গায় ঠায় বসে থাকতে পারে আর গায়ের পালকের রঙ এমন যে সহজে চোখেই পড়ে না ভালমত খেয়াল করে না খুজলে। প্রথম ছবি তুলেছিলাম সাতক্ষীরা থেকে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে সহজে দেখা মেলে ল্যাঞ্জা রাতচরা, সাতক্ষীরা পাখিটির ডাক শুনুন দেশী রাতচরা Indian Nightjar Caprimulgus asiaticus আমাদের দেশের বিরল আবাসিক পাখি আমাদের দেশের বিরল আবাসিক রাতচরা, একে সম্ভবত সারাদেশের অনেক যায়গাতেই পাওয়া যায় তবে তথ্য উপাত্তের অভাব রয়েছে। সুন্দরবন সহ সিলেট অঞ্চলের বনে সম্প্রতি ডাক শোনা গেছে। এছাড়া রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জের কিছু স্থানে এর দেখা পাওয়া যায় নিয়মিত। এছাড়া রাতে এর ডাক খেয়াল করলে আরও স্থান থেকে এর অস্তিত্ব টের পাওয়া যাবে বলে মনে করি। এখনো এর দেখা পাইনি। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি মেঠো রাতচরা Savanna Nightjar Caprimulgus affinis আমাদের দেশের পরিযায়ী পাখি / অপ্রতুল তথ্য আমাদের দেশের খুব বিরল রাতচরা এটি, সম্ভবত পরিযায়ী। প্রথম পাওয়া গিয়েছিলো চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে, এরপরে পঞ্চগড় জেলায় এবং সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গায় পাওয়া গিয়েছে। সুতরাং ধরা যায় এর বিস্তৃতি আমাদের জানা অবস্থার চেয়ে আরও বড়। এখনো এর দেখা পাইনি। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি

বাংলাদেশের রাতচরা Read More »

বাংলাদেশের ব্যাংমুখো

বাংলাদেশে একটি মাত্র প্রজাতির ব্যাংমুখো পাখি পাওয়া গেছে। হজসনের ব্যাংমুখো Hodgson’s Frogmouth Batrachostomus hodgsoni আমাদের দেশের অতিবিরল শীতের পরিযায়ী বাংলাদেশের অতি বিরল এবং রাতচরা পাখিদের আত্বীয় এই পাখিটি আমাদের দেশে পরিযায়ী। সর্বশেষ তথ্যমতে একে টাংগাইলের মধুপুর বনে প্রায় তিন দশক আগে দেখা গেছিলো। এছাড়া তার কয়েক বছর পরে মৌলভিবাজারের লাউয়াছড়া বন থেকে একটি পাখির ছবি তোলা হয়েছিলো। কয়েক দশক ধরে একে আর এদেশে দেখা পাওয়া যায়নি। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এদেশে অনেকবছর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের ব্যাংমুখো Read More »

কবুতর, ঘুঘু, হরিয়াল ও ধুমকল

বাংলাদেশে কবুতর, ঘুঘু, হরিয়াল ও ধুমকল মিলিয়ে মোট ১৮ প্রজাতির পাখি পাওয়া গেছে। গোলা পায়রা Rock Pigeon Columba livia আমাদের দেশের আবাসিক পাখি সারা বাংলাদেশে এমনকি সারা পৃথিবীতে এর দেখা পাওয়া যায়। মানুষের বাসাবাড়ির কোনায়, বিভিন্ন স্থাপনায় সুবিধাজনক যায়গা পেলেই এরা বাসা তৈরী করে। প্রচুর পরিমানে বংশবিস্তার করে বলে এর সংখ্যা বেশ। এরা খাদ্যের জন্যে মানুষের চাষাবাদ করা জমির উপরে বেশ অনেকটাই নির্ভরশীল, ফসল কাটার পরে এদেরকে দলে দলে এসে খাবার খেতে দেখা যায়। এছাড়া পোষা কবুতরের ঝাঁকেও এরা মিশে যেতে পারে। বিভিন্ন নদীর চরাঞ্চলেও এদের দেখা যায় দলে দলে খাবার খেতে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে সহজে দেখা মেলে গোলা পায়রা, ঢাকা মেটে-টুপি পায়রা Pale-capped Pigeon Columba punicea আমাদের শীতের পরিযায়ী আমাদের দেশের অত্যন্ত বিরল প্রজাতির এই কবুতরটিকে বেশ কয়েক দশক ধরে আমাদের দেশে দেখা পাওয়া যায়নি। এদের বাসা সাধারনত আমাদের দেশের উত্তরে ভারতের উচু পাহাড়ি বনে, মাঝেমধ্যে নিচে নেমে আসতে পারে। বিশ্বে সংকটাপন্ন এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি উদয়ী রাজঘুঘু Oriental Turtle-Dove Streptopelia orientalis আমাদের দেশের আবাসিক পাখি সাধারন ঘুঘুর চেয়ে আকারে বড় এবং দেখতে আলাদা এই ঘুঘু। এদের ঘাড়ের দুইপাশে চারকোনা ডোরাকাটা পালক রয়েছে যা ডাকার সময় ফুলে ফুলে ওঠে। আমাদের দেশের সকল ধরনের বনাঞ্চলের আশেপাশে খোলা যায়গায় বেশি দেখা যায় তবে অন্যান্য স্থানেও কমবেশি পাওয়া যায় অন্য ঘুঘুর ঝাঁকে। এর প্রথম ছবি তুলেছিলাম চট্বগ্রাম থেকে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে উদয়ী রাজঘুঘু, চট্বগ্রাম ইউরেশীয় কন্ঠীঘুঘু Eurasian Collared-Dove Streptopelia decaocto আমাদের দেশের আবাসিক পাখি ইউরোপ থেকে এশিয়ার বিস্তীর্ন এলাকা জুড়ে এই ঘুঘুটির বাস, আমাদের দেশের আবাসিক পাখি। এদের বাদামি রঙ এর দেহ, ঘাড়ে কালো পালকের তৈরী মারা রয়েছে, লেজ লম্বা আর চোখ লাল। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি দেখতে একই রকম। প্রথম ছবি তুলেছিলাম ঢাকার অদূরে কেরানিগঞ্জ থেকে।e বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে সহজে দেখা মেলে ইউরেশীয় কন্ঠীঘুঘু, ঢাকা পাখিটির ডাক শুনুন লাল কন্ঠীঘুঘু Red Collared-Dove Streptopelia tranquebarica আমাদের দেশের আবাসিক পাখি কন্ঠী ঘুঘুর চেয়ে সামান্য ছোট আকৃতির এবং খাটো লেজবিশিষ্ট এই ঘুঘুটি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। পুরুষ পাখির দেহ লালচে হয়, স্ত্রী পাখিগুলো বাদামী, দেখতে অনেকটা কন্ঠী ঘুঘুর মত হয়। এরা একসাথে বড় ঝাঁক তৈরী করতে পারে, আমি একসাথে কয়েকশো লাল কন্ঠী ঘুঘুর ঝাঁক দেখেছি। শহরাঞ্চলে খুব বেশি দেখা যায়না, প্রথম ছবি তুলেছিলাম ঢাকার সাভার থেকে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে সহজে দেখা মেলে লাল কন্ঠীঘুঘু, ঢাকা পাখিটির ডাক শুনুন পূবের তিলা ঘুঘু Eastern Spotted Dove Spilopelia chinensis আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী এর বিস্তৃতি আমাদের দেশের পূর্বে, আমাদের দেশের তালিকায় এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বহুদিন এর দেখা পাবার দাবী করতে কাউকে দেখিনি। বিশ্বে মহাবিপন্ন, বিপন্ন, সংকটাপন্ন, প্রায়-বিপদগ্রস্থ, নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি তিলা ঘুঘু Spotted Dove Spilopelia chinensis আমাদের দেশের আবাসিক পাখি অত্যন্ত সহজলভ্য এবং সুলভ আবাসিক ঘুঘুপাখি এটি। সারাদেশেই খুব ভালো সংখ্যায় এরা টিকে রয়েছে, প্রচুর চোরাশিকারও হতে হয় এই পাখিটিকে। প্রায়ই ঝাঁকে ঝাঁকে বিষ দেয়া খাবার খেয়ে মারা পড়ে বলে খবর বের হয় অপরাধ মানুষের শষ্য খেয়ে ফেলেছে কিনা! এরা বসতবাড়ির কার্নিশ সহ কলাগাছ সহ ছোট গাছে বাসা করে বাচ্চা তোলে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে সহজে দেখা মেলে তিলা ঘুঘু, যশোর পাখিটির ডাক শুনুন হাসি ঘুঘু Laughing Dove Spilopelia senegalensis আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী এই ঘুঘু আমাদের দেশে বহুদ বছর হল দেখা মেলেনি তবে এর বিস্তৃতি আমাদের দেশের পশ্চিম দিকে ভারতে। সেদিক থেকে হয়তো কয়েকটি চলে এসেছিলো বহু আগে, সেই থেকে বাংলাদেশের পাখির তালিকায় এদের নাম উঠেছে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি ডোরা পাপিয়া-ঘুঘু Barred Cuckoo-dove Macropygia unchall আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী বড় আকারের লম্বা লেজবিশিষ্ট এই প্রজাতির ঘুঘুর আচরনে পাপিয়ার মত কিছু ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়। এর বাস আমাদের দেশের উত্তরে ভারতের উচু পাহাড়ি জঙ্গলে এবং সেখান থেকে নেমে আসা কয়েকটিই আমাদের দেশে বেশ কয়েক দশক আগে দেখা গিয়েছিলো। অনেকদিন একে আর পাওয়া যায়নি। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি শ্যামাঘুঘু Asian Emerald Dove Chalcophaps indica আমাদের দেশের আবাসিক পাখি ছোট আকারের খাটো লেজবিশিষ্ট খুব সুন্দর এই পাখিটি সাধারনত বাঁশবাগান জাতীয় যায়গা পছন্দ করে। আমাদের দেশের বনাঞ্চলগুলো সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রামীন বনে এর অস্তিত্ব রয়েছে এখনো। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহের উপরিভাগ চকচকে সবুজ রঙ এর এবং মাথার উপরে চাঁদি ছাই রঙ এর। এরা খুব দ্রুত উড়তে পারে, বনে গিয়ে পাশ দিয়ে উরে যাবার সময় মনেহয় অন্যকিছু উড়ে গেলো। এর প্রথম দেখা পেয়েছিলাম ঢাকার মিরপুর থেকে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে মাঝেমাঝে দেখা মেলে শ্যামা ঘুঘু, ঢাকা কমলা-বুক হরিয়াল Orange-breasted Green-Pigeon Treron bicinctus আমাদের দেশের আবাসিক পাখি আমাদের দেশে বেশ অনেকটা যায়গা জুড়ে এই প্রজাতির হরিয়াল চোখে পড়ে, পুরুষ পাখিগুলোর বুকের কাছটা গাড় কমলাটে হয়, পা লাল এবং লেজের উপরিভাগ ও ডানার নিচে বেগুনী। আমাদের দেশের ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্বগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের বনাঞ্চলে এবং এর বাইরেও লোকালয়ে এর দেখা মেলে হলদে-পা হরিয়ালের ঝাঁকে। এছাড়াও দেশের অন্য অঞ্চলে কদাচিৎ এর দেখা মিলে থাকে। প্রথম ছবি তুলেছিলাম সাতছড়ি বন থেকে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে মাঝেমাঝে দেখা মেলে কমলাবুক হরিয়াল, হবিগঞ্জ পম্পাডুর হরিয়াল Ashy-headed Green-Pigeon Treron phayrei আমাদের দেশের আবাসিক পাখি আমাদের দেশের সকল ধরণের বনাঞ্চলে এর উপস্থিতি রয়েছে, তবে সিলেট ও চট্বগ্রাম বিভাগের বনে বেশি দেখা মেলে। পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ের মাথার উপরের চাঁদি ছাই রঙ এর , তবে শুধু পুরুষ পাখির ডানার উপরিভাগ লালচে। দেখতে বেশ সুন্দর, আকারে বেশ ছোট। প্রথম ছবি তুলেছিলাম সাতছড়ি থেকে। বিশ্বে প্রায়-বিপদগ্রস্থ এদেশে মাঝেমাঝে দেখা মেলে পম্পাডুর হরিয়াল, হবিগঞ্জ মোটা-ঠুটি হরিয়াল Thick-billed Green-Pigeon Treron curvirostra আমাদের দেশের আবাসিক পাখি সবুজ রঙ এর মোটা ঠোট বিশিষ্ট এই হরিয়ালের ঠোটের গোঁড়ায় লাল ছোপ রয়েছে, দেখতে খুব সুন্দর। আমাদের দেশের সিলেট ও চট্বগ্রাম বিভাগের বনাঞ্চলে দেখা মেলে তবে মাঝেমধ্যে বাইরেও দেখা মেলে। ঢাকা শহরে কয়েকবার দেখা গেছে সম্প্রতি। প্রথম দেখা পেয়েছিলাম সাতছড়ি বন থেকে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে মোটা-ঠুটি হরিয়াল, হবিগঞ্জ হলদে-পা হরিয়াল Yellow-footed Green-Pigeon Treron phoenicopterus আমাদের দেশের আবাসিক পাখি আমাদের দেশের সর্বত্র এই প্রজাতির হরিয়ালকে বড় বড় ঝাঁকে দেখা মেলে। বিশেষ করে বটফল পাকার মৌসুমে এরা অনেকগুলো পাখি মিলে বিভিন্ন গাছে ফল খাবার জন্য জড়ো হয়। একমাত্র এই প্রজাতির হরিয়ালের পায়ের রঙ হলুদ, সুতরাং পা দেখতে পেলে সহজেই এদের চেনা যায়। আর দেহের রঙ হালকা হলদেটে সবুজ। প্রথম ছবি তুলেছিলাম ঢাকার সাভার থেকে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে সহজে দেখা মেলে হলদে-পা হরিয়াল, ঢাকা ল্যাঞ্জা হরিয়াল Pin-tailed Green-Pigeon Treron apicauda আমাদের দেশের আবাসিক পাখি এটি বাংলাদেশের এক বিরল প্রজাতির হরিয়াল, শুধুমাত্র চট্বগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি বনে কদাচিৎ দেখা মেলে, সিলেট বিভাগের

কবুতর, ঘুঘু, হরিয়াল ও ধুমকল Read More »

ডুবুরী বা ফ্যালফেলে

বাংলাদেশে ডুবুরী জাতীয় পাখির চারটি প্রজাতি পাওয়া গেছে এপর্যন্ত ছোট ডুবুরী Little Grebe Tachybaptus ruficollis আমাদের দেশের আবাসিক পাখি এই পাখিটি আমাদের দেশের আবাসিক পাখি তবে শীতকালে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থান পরিবর্তন করতে পারে। আমাদের দেশের হাওড় এলাকায় ঝাঁক বাধা অবস্থায় দেখা মেলে তবে সাধারনত শীতে সারাদেশের বিভিন্ন জলাশয়ে কয়েকটি করে দেখা যায়। এরা পানির উপর দিয়ে প্রায় দৌড়ে খুব দ্রুত অনেক দূরে চলে যেতে পারে, একটি আরেকটিকে তাড়া করে। এর প্রথম ছবি তুলেছিলাম ঢাকার সাভার থেকে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে সহজে দেখা মেলে ছোট ডুবুরী, ঢাকা পাখিটির ডাক শুনুন লাল-ঘাড় ডুবুরী Red-necked grebe Podiceps grisegena আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী ডুবুরী এটি। বেশ কয়েক দশক হল এর দেখা পাওয়া যায়নি। বড় নদীতে এরা পরিযায়ন করে আসতে পারে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি। বড় খোঁপা ডুবুরী Great Crested Grebe Podiceps cristatus আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পরিযায়ী এবং বড় আকৃতির এই ডূবুরী আমাদের দেশের সকল অঞ্চলে বড় নদী ও হ্রদ এ এদের দেখা যায়। আমাদের দেশের বড় নদী ছাড়াও কাপ্তাই হ্রদ, সিলেট অঞ্চলের হাওড় এমনকি কক্সবাজারের সাগরেও এদের উপস্থিতি রয়েছে। প্রজননকালীন সময়ে এদের মাথায় কিছু অতিরিক্ত পালক গজায় এবং তা কমলাটে রঙ ধারন করে, দেখতে খোঁপা বাঁ ঝুঁটির মত দেখায়। এদের প্রজনন নৃত্য খুব সুন্দর, ভাগ্যে থাকলে মার্চ মাসের দিকে আমাদের দেশে বসে দেখা যেতে পারে। এর প্রথম দেখা পেয়েছিলাম রাজশাহী থেকে। সাধারনত বেশ কয়েকটি একসাথে থাকে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে মাঝেমাঝে দেখা মেলে বড় খোঁপাডুবুরী, রাজশাহী কালো-ঘাড় ডুবুরী Black-necked Grebe Podiceps nigricollis আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী ঘাড়ের কাছটা কালো, চোখ টকটকে লাল রঙ এর এবং আকারে ছোট ডুবুরীর চেয়ে সামান্য বড় এই পাখিটি আমাদের দেশের পরিযায়ী ডুবুরী। সাধারনত পদ্মা নদীর অববাহিকায় শীতকালে কদাচিৎ এদের দেখা মেলে। আমি এখনো এর দেখা পাইনি। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি।

ডুবুরী বা ফ্যালফেলে Read More »

ফ্লেমিংগো

বাংলাদেশে একটিমাত্র প্রজাতির ফ্লেমিংগো পাওয়া গিয়েছে এপর্যন্ত বড় ফ্লেমিংগো Greater Falmingo Phoenicopterus roseus আমাদের দেশের অনিয়মিত শীতের পরিযায়ী বাংলাদেশে ফ্লেমিংগো দেখা যায়নি আগে। তবে বাংলাদেশ ফ্লেমিংগো পাখির সম্ভাব্য বিচরণভূমি হিসেবে উল্লেখ আছে পুরাতন কিছু বইতে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের দিকে  যমুনা নদীর এক চর থেকে একদল শিকারী একটি লম্বা গলা ও অদ্ভুত ঠোটশিষ্ট পাখি শিকার করেন ও মৃত পাখিটির ছবি তোলেন। এর কিছুদিন পরেই কক্সবাজারের মহেশখালীর একও দ্বীপে একটি কমবয়স্ক বড় ফ্লেমিংগো পাখির ছবি তোলেন একজন সাংবাদিক। বাংলাদেশে ফ্লেমিংগোর ইতিহাস হচ্ছে এই। এই পাখিটি আমাদের দেশের পশ্চিম দিকে ভারতের রাজস্থান, উড়িষ্যা, গুজরাট ইত্যাদি রাজ্যে প্রজনন করে তবে আমাদের এদিকে আসেনা বলাই চলে, কারনটা অনুমান করা কঠিন নয়।  বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে ছবি নেই।

ফ্লেমিংগো Read More »

বাংলাদেশের বুনো তিতির, মোরগ ও কোয়েল

আমাদের দেশে এই পরিবারের মোট ১৩ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। লাল-গলা বাতাই Rufous-throated Partridge Arborophila rufogularis আবাসিক পাখি ছোট আকৃতির মুরগিজাতীয় এই পাখিটি আমাদের দেশের সিলেট অঞ্চলের পাহাড়ি বনে পাওয়া যেত। প্রায় তিন দশক আগে শিকার করা অবস্থায় কয়েকটি পাখি দেখা গিয়েছিল। এর গলার কাছটায় লালচে রঙের পালক থাকে। চট্বগ্রামের উচু পাহাড়ি বন থেকে সম্প্রতি বছরগুলোতে একবার ডাক শোনা যাবার দাবী আছে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে বহুদিন দেশে পাওয়া যায়না সাদা-গাল বাতাই White-cheeked Partridge Arborophila atrogularis আবাসিক পাখি এই প্রজাতির বাতাই পাখিটিকে আমাদের দেশের সিলেট ও চট্বগ্রাম বিভাগের প্রায় সকল পাহাড়ি বনে পাওয়া যায়। সাধারনত বনের মধ্যের বাঁশবাগান এলাকা এদের পছন্দ, উচ্চস্বরে ডাকাডাকি করে। দিনের বেলায় মাটিতে খুটে খুটে খায় আর রাতে কোন গাছের ডালে উঠে বিশ্রাম নেয়। এর দেখা পাইনি এখনো তবে চট্বগ্রামের এক বনে খুব কাছ থেকে ডাক শুনেছিলাম। বিশ্বে প্রায়-বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে দেখা পাইনি এখনো পাখিটির ডাক শুনুন দেশী ময়ূর Indian Peafowl Pavo cristatus দেশ থেকে বিলুপ্ত পাখি আমাদের দেশে অর্ধশতাব্দি আগেও সুন্দরবন বাদে প্রায় সকল বনে এই ময়ুরের দেখা পাওয়া যেত, এমনকি খোলা উন্মুক্ত প্রান্তরেও। তবে অত্যধিক শিকার করার ফলে প্রায় তিন দশক আগে বাংলাদেশ থেকে ময়ুর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে এখনো পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম সহ উত্তর বঙ্গের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় মাঝেমধ্যে সীমান্তের ওপার থেকে খাবার, বিশেষ করে ভুট্টা খাবার জন্য, মানুষের হাতে ধরাও পড়ে। সম্প্রতি এমন কয়েকটি ময়ুরকে দেখা গেছে ও ছবি তোলা হয়েছে পঞ্চগড়ের এক সীমান্তবর্তী এলাকায়। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে বিলুপ্ত/খুব কম দেখা মেলে দেশে এখন আর পাওয়া যায়না সবুজ ময়ূর Green Peafowl Pavo muticus বাংলাদেশের চট্বগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি বনে পাওয়া যেত এই প্রজাতির ময়ুর, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে এর দেখা পাওয়া যায়নি। বিশ্বে বিপন্ন এদেশে বিলুপ্ত দেশ থেকে বিলুপ্ত মথুরা Kalij Pheasant Lophura leucomelanos আবাসিক পাখি কালো রঙ এর অত্যন্ত সুন্দর এই বনমুরগি আমাদের দেশের সিলেট ও চট্বগ্রাম বিভাগের প্রায় সকল বনেই পাওয়া যায়। শেরপুরের গারো পাহাড়ে খুব কম সংখ্যায় হলেও আছে। এর প্রথম ছবি তুলেছিলাম চট্বগ্রামের এক বনের ধারের চা-বাগান থেকে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে মথুরা, চট্বগ্রাম মেটে কাঠ-ময়ূর Grey Peacock-Pheasant Polyplectron bicalcaratum আমাদের দেশের আবাসিক পাখি মথুরার চেয়ে বেশ কিছুটা বড় আকৃতির অনিন্দ্য সুন্দর এই পাখিটিকে আমাদের দেশের চট্বগ্রাম বিভাগের উচু পাহাড়ি বনাঞ্চলে পাওয়া যায়। সিলেট বিভাগের কয়েকটি বনে এর উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে। খুব লাজুক স্বভাবের এই পাখিটি মানুষকে খুব স্বযত্নে এড়িয়ে চলে, কারন বন্যপ্রানী শিকারীদের টার্গেট এ। বেশ কাছ থেকে ডাক শুনতে পেলেও চট্বগ্রামের এক বনে গিয়ে এর দেখা পাইনি এখনো। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি। পাখিটির ডাক শুনুন বনমোরগ Red Junglefowl Gallus gallus আমাদের দেশের আবাসিক পাখি আমাদের গৃহপালিত মুরগী এর পূর্বপুরুষ এবং দেখতেও কাছাকাছি এই পাখিটিকে আমাদের দেশের সুন্দরবন সহ সকল ধরণের বনে পাওয়া যায়। চোরাশিকারীদের শিকারের অন্যতম টার্গেট এই পাখিটি ফলে এর সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে। মোরগগুলো দেখতে খুব সুন্দর হয়, গৃহপালিত মোরগের চেয়ে দেখতে বেশ কিছুটা আলাদা, ডাক চিকন। ভোরে ও সন্ধ্যায় বনের মধ্যে ফাকা যায়গায় বেরিয়ে এসে চরে বেড়ায় আর দিনের বেলা সাধারনত ঝোপঝাড়ের মধ্যে বা গাছের ডালে উঠে বসে থাকে। এর প্রথম ছবি তুলেছিলাম চট্বগ্রাম এর এক চা বাগান থেকে। বনাঞ্চল এলাকায় ভোরবেলা এর ডাক শুনে এক আশ্চর্য সুন্দর অনুভূতি হয়। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে মাঝেমাঝে দেখা মেলে বনমোরগ, হবিগঞ্জ পাখিটির ডাক শুনুন বাদা তিতির Swamp Francolin Francolinus gularis আমাদের দেশ থেকে বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে তবে দেশের উত্তরাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর উজানে চরাঞ্চলে একে এখনো পাওয়া গেলেও যেতে পারে। বিশ্বে সংকটাপন্ন এদেশে আর দেখা মেলে না দেশে আর পাওয়া যায়না মেটে তিতির Grey Francolin Ortygornis pondicerianus আমাদের দেশের বিরল আবাসিক পাখি বাংলাদেশ থেকে একসময় বিলুপ্ত হয়ে গেছে ধারনা করা হলেও দেশের পশ্চিমাঞ্চলে সীমান্তবর্তী কিছু স্থানে এখনো এর দেখা পাওয়া যায়। আমি এর ছবি প্রথম তুলেছিলাম রাজশাহী থেকে। এছাড়া কুষ্টিয়া এবং চুয়াডাঙ্গাতেও এদের দেখা গেছে। সাধারনত বেশ কয়েকটি একসাথে থাকে। জোরে জোরে ডাকাডাকি করে এবং মানুষ এদের কাছাকাছি চলে গেলে খুব দ্রুত উড়ে পালিয়ে যায়। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে মেটে তিতির, পদ্মার চর পাখিটির ডাক শুনুন কালা তিতির Black Francolin Francolinus francolinus আমাদের দেশের অতি বিরল আবাসিক পাখি এর প্রচলিত নাম হচ্ছে শেখ ফরীদ বাঁ পান-বিড়ি-সিগারেট। এর তীক্ষ্ণ উচ্চস্বরের ডাক শুনে মনে হতে পারে এই শব্দগুলোই বলছে। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ অঞ্চলের মধুপুর বনে এর দেখা পাওয়া গেছিলো সর্বশেষ। পরবর্তীতে কয়েক বছর আগে পঞ্চগড় জেলায় সিমান্তবর্তী কিছু স্থানে এর নিয়মিত পদচারনার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে দুদেশের মধ্যে এরা বিচরন করে, বিপদ টের পেলেই পালিয়ে ভারতে চলে যায়। এছাড়া চাপাইনবাবগঞ্জের দুর্গম এলাকায় সীমান্ত ঘেষা একটি স্থানে এদের দেখা মেলে এদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে। এর দেখা এখনো পাইনি। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি রাজ বটেরা Blue-breasted/King Quail Synoicus chinensis আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি এই প্রজাতির কোয়েল বাঁ বটেরা আমাদের দেশে পরিযায়ী। তবে খুব দুর্লভ, মানুষের হাতুর তালুর কয়েকভাগের একভাগ এর দেহের আকার। পুরুষ পাখিগুলো দেখতে খুব সুন্দর, বুকের কাছটা গাড় নীল, পেটের দিকে গাড় খয়েরী আর গলায় সাদা পালকের মালা রয়েছে কয়েকটি। আমাদের দেশে পদ্মার অববাহিকায় কদাচিৎ, বরিশালে, মৌলভিবাজার ও শেরপুরে একে সাম্প্রতিক কালে দেখা পাওয়া গেছে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি পাতি বটেরা Common Quail Coturnix coturnix আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি আমরা ফার্মে যে কোয়েল দেখতে পাই অনেকটা সেরকম দেখতে এই কোয়েলও আমাদের দেশে পরিযায়ী। আকারে ছোট এই পাখিটিকে সাধারনত সারাদেশেই বড় নদীর চরাঞ্চলে, বনের ধারে ও খোলা প্রান্তরে পাওয়া যেতে পারে। খুব দ্রুত উড়তে পারে। এর দেখা পেয়েছিলাম রাজশাহীর পদ্মার এক চরে। বর্তমানে বেশ বিরল, উড়ন্ত অবস্থায় ছবি তোলা গেলে সহজে আইডি করা যায় কারন শীতকালীন রূপে একে দেখতে বৃষ্টি বটেরার চেয়ে খুব আলাদা লাগেনা, তখন এর ডানার পালকে দাগদাগ (barring) দেখে একে চেনা যায়। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে পাতি বটেরা, রাজশাহী বৃষ্টি বটেরা Rain Quail Coturnix coromandelica আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী এই প্রজাতির কোয়েল সম্ভবত আমাদের দেশে পাতি বটেরার চেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে শীতকালীন রুপ দুটোকেই একই রকম লাগে অনেকটা তাই পাতি বটেরা হিসেবে ধরা হয় সম্ভবত। ছবি তোলা খুব কষ্টকর, মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই খুব দ্রুতগতিতে উড়ে চলে যায়। তবে শীতের শেষে যখন পুরুষ পাখিগুলো প্রজননকালীন রূপ পায় তখন আলাদা করা বেশ সহজ, তখন এদের ঠোটের নিচে গলায় বেশ মোটা সাদা মালা দেখা যায় কয়েকটি এবং পেটের দিকটা কালো রঙ ধারন করে। এখনো এর দেখা পাইনি। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি।

বাংলাদেশের বুনো তিতির, মোরগ ও কোয়েল Read More »

বাংলাদেশের বুনোহাঁস/Waterfowl

বাংলাদেশে হাঁস, রাজহাঁস ও মার্গেঞ্জার মিলিয়ে এপর্যন্ত মোট ৩৩ প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে। রাজ সরালি Fulvous Whistling-Duck Dendrocygna bicolor আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি বাংলাদেশে দুরকমের সরালি পাওয়া যায়, এটি আকারে অপেক্ষাকৃত বড়, পরিযায়ী এবং বেশ কমই দেখা যায় এখন। আমাদের দেশে শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিল ও হাইল হাওড়ে এর সবচেয়ে বড় সংখ্যাটি শীতে দেখা যায়। সিলেট বিভাগের হাওড়ে ছাড়া ঢাকার আশেপাশে অল্প সংখায় দেখা যায় ছোট সরালির ঝাঁকে। এর কোমর সাদা রঙের হয় আর গায়ের রঙ গাড় কমলাটে। এর ছবি প্রথম তুলেছিলাম জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে মাঝেমাঝে দেখা মেলে রাজ সরালি, ঢাকা ছোট সরালি Lesser Whistling-Duck Dendrocygna javanica আমাদের দেশের আবাসিক পাখি আমাদের দেশে শীতে বিভিন্ন বড় জলাশয়ে এই প্রজাতির শত-শত বা হাজার হাজার হাঁস একসাথে দেখা পাওয়া যায়। দেশের মানুষ শীতের পরিযায়ী হাঁস বলতে একেই বুঝে থাকে, ডাকে অতিথি পাখি নামে। অথচ এটি আমাদের দেশের সম্পুর্ণ আবাসিক হাঁস। বর্ষা মৌসুমে যখন দেশের জলাশয়গুলোতে পানি বেড়ে যায় তখন এরা ছোট ছোট দলে ও সংখ্যায় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে ও প্রজনন করে। এরা খেজুর জাতীয় গাছের মাথায় বাসা করে বলে এদেরকে গেছো হাঁসও বলা হয়।   বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে সহজে দেখা মেলে ছোট সরালি, ঢাকা পাখিটির ডাক শুনুন দাগি-মাথা রাজহাঁস Bar-headed Goose Anser indicus আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি বাংলাদেশে পাওয়া যাওয়া রাজহাসগুলোর মধ্যে এটি অনিন্দ্য সুন্দর। চোখের পেছনে দুটো দাগ রয়েছে বলে এর এমন নাম। বাংলাদেশে মোটামুটি ভালো সংখ্যায় পাওয়া যায় বড় নদীর চর ও মোহনা অঞ্চলে। রাজশাহীতে এর প্রথম ছবি তুলেছিলাম, পরে মেঘনা নদীর উপকূলীয় মোহনায় এর বড় বড় ঝাঁক দেখেছি। এরা সাইবেরীয় অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ সহ দক্ষীণ এশিয়ায় পরিযায়ী হয়ে আসে। এভারেস্টের উপর দিয়ে এদের উড়ে আসার রেকর্ড আছে অর্থাৎ প্রায় ৩০,০০০ ফুটের বেশি উচু দিয়ে। যা এক অসাধারন ব্যাপার। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে মাঝেমাঝে দেখা মেলে ডোরা-মাথা রাজহাঁস, নোয়াখালী মেটে রাজহাঁস Greylag Goose Anser anser আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি মেটে রঙ এর গোলাপি পা বিশিষ্ট এই পরিযায়ী রাজহাঁস আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় আকৃতির। একেও সাধারনত বড় নদীর চর ও মোহনা অঞ্চলে এবং দেশের কিছু হাওড়ে পরিযায়ন করে আসতে দেখা যায়। এর প্রথম ছবি তুলি মেঘনা নদীর উপকূলীয় মহনায়। সেখানে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নতুন চর জাগে, তাতে গজিয়ে ওঠা কচি ঘাস এই রাজহাঁসদের পছন্দের খাবার। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে মেটে রাজহাঁস, ভোলা বড় ধলা-কপাল রাজহাঁস Greater White-fronted Goose Anser albifrons আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি কমলা-পা বিশিষ্ট এই রাজহাঁস দেখতে খুব সুন্দর। এদের আকৃতি মেটে রাজহাঁসের চেয়ে সামান্য ছোট। ১৯৮০ এর দশকে ঢাকার অদূরে পদ্মা নদীর চরে এদের প্রথম দেখা যাবার খবর রেকর্ড রয়েছে। সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগের একটি বিলে ও একটি চরে এক জোড়া পাখি দেখা গিয়েছিলো। আমি যেতে পারিনি তাই ছবিও তুলতে পারিনি। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি ছোট ধলা-কপাল রাজহাঁস Lesser White-fronted Goose Anser erythropus আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি আকারে আরেকটু ছোট আকৃতির এই রাজহাঁসটিরও পা কমলা। বাংলাদেশে একে নিকট অতীতে একে মাত্র একবার দেখা যাবার কথা জানি। ২০১৭ সালে হাকালুকি হাওড়ে একটি পাখিকে দেখা গিয়েছিলো এবং ছবি তোলা হয়েছিলো জলচর পাখিশুমারীর সময়। বিশ্বে সংকটাপন্ন এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি পাতি সোনাক্ষীহাঁস Common Goldeneye Bucephala clangula আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি ইউরোপ থেকে পরিযায়ন করে আসা এই হাঁস অত্যন্ত সুন্দর। বাংলাদেশে বিগত কয়েক দশকে একে দেখা যাবার কথা জানা যায়না। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি মিউ হাঁস Smew Mergellus albellus আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি এর বাংলা নাম জানা যায়নি। বাংলাদেশের পাখির তালিকায় এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি নকতা হাঁস Knob-billed Duck Sarkidiornis melanotos আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি আফ্রিকায় প্রজনন করা এই হাঁস ছোট সংখায় আমাদের দেশে শীতে পরিযায়ন করে আসে। বড় হাওড় ও বিল এলাকায় অনিয়মিতভাবে কয়েকটিকে দেখা যায়। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে কমই দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি খয়েরি চখাচখি Ruddy Shelduck Tadorna ferruginea আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি বাংলাদেশের নদীগুলোতে বড় সংখায় এই হাঁস পরিযায়ন করে আসে। সারাদেশের সকল বড় নদীতেই শীতকালে এদেরকে অল্প বেশি সংখ্যায় পরিযায়ন করে আসতে দেখা যায়, এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চল ও হাওড় এলাকায়ও দেখা মেলে। সাধারনত জোড়ায় জোড়ায় বাঁ একসাথে অনেকগুলো পাখি থাকে। এদের প্রথম ছবি তুলেছিলাম ফেনীর মুহুরী প্রজেক্টে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে সহজে দেখা মেলে খয়েরি চখাচখি, রাজশাহী পাখিটির ডাক শুনুন শাহ চখা, রাজমনি হাঁস Common Shelduck Tadorna tadorna আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি অত্যন্ত সুন্দর দেখতে এই প্রজাতির চখাচখি আমাদের দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের চরাঞ্চলে ও নদীর মোহনায় বেশি দেখা যায়। সেখানে এদের বড় সংখ্যা পরিযায়ন করে আসে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বড় নদী ও হাওড়েও অল্প সংখ্যককে দেখা যায়। এদের আরেক নাম রাজমনি হাঁস, পাতি চখাচখি ইত্যাদি। এদের প্রথম ছবি তুলেছিলাম ভোলার দক্ষিণে মেঘনা নদীর মোহনায়। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে মাঝেমাঝে দেখা মেলে রাজমনি হাঁস, ভোলা বালি হাঁস Cotton Pygmy-Goose Nettapus coromandelianus আমাদের দেশের আবাসিক পাখি ছোট আকারের অনিন্দ্য সুন্দর এই হাসগুলো আমাদের দেশের আবাসিক পাখি। সাধারনত বড় বিল ও হাওড় অঞ্চলে বাস করে, গাছের কোটরে বাসা করে বাচ্চা তোলে। এদের প্রায় সারাদেশেই পাওয়া যায়, শীতে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে পারে। প্রথম ছবি তুলেছিলাম শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিল থেকে। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে মাঝেমাঝে দেখা মেলে সাদা বালিহাস, মৌলভিবাজার মান্দারিন হাঁস Mandarin Duck Aix galericulata আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি অত্যন্ত বিরল এই হাঁস মূলত উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিশেষ করে চীনের দিক থেকে পরিযায়ন করে আসে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায়। আমাদের দেশে অত্যন্ত বিরল। কয়েক দশক আগে সিলেট বিভাগের কোন এক হাওড়ে এদের দেখা গেছিলো। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম দেখা মেলে এখনো দেখা পাইনি সাদা-ডানা বাদি হাঁস White-winged Duck Asarcornis scutulata আমাদের দেশের আবাসিক পাখি ছিল এই হাসটিও বাংলাদেশে অত্যন্ত বিরল এবং কয়েক দশক ধরে এর দেখা পাওয়া যায়নি। এর আবাসস্থল একটু আলাদা, চিরসবুজ বনের মধ্যের জলাশয়ে একে পাওয়া যায়। ধারনা করা হয় বাংলাদেশের রাঙামাটির জেলার উত্তরাংশে গহীন বনে এদের এখনো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বে বিপন্ন এদেশে আর দেখা মেলে না এখনো দেখা পাইনি বৈকাল তিলিহাঁস Baikal Teal Sibirionetta formosa আমাদের দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ এলাকা থেকে আসে বলে এই হাসের এমন নাম, পুরুষ হাসগুলো অত্যন্ত সুন্দর দেখতে। বিরল ও বেশ ছোট আকৃতির এই পরিযায়ী হাসটিকে প্রতি বছর আমাদের দেশে হাতেগোনা কয়েকবার করে দেখা যায় মাত্র, সাধারনত বড় নদী বাঁ হাওড় অঞ্চলে। ভোলার দক্ষিণে সাগর এলাকায় একটি স্ত্রী পাখির ছবি তুলেছিলাম আমি। বিশ্বে নূন্যতম বিপদগ্রস্থ এদেশে খুব কম

বাংলাদেশের বুনোহাঁস/Waterfowl Read More »

Scroll to Top